নিজ ঘরে ঝুলন্ত মরদেহ, এক সপ্তাহেও উদঘাটন নয় রূপক হত্যার রহস্য, নিজ ঘরেও নিরাপত্তা নেই’—রূপক হত্যা ঘিরে আতঙ্কে এলাকাবাসী
সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌরসভার খাসাড়িপাড়া এলাকায় নিজ ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া যুবক সাদিকুল ইসলাম রূপক হত্যার ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
গত ৩১ মে রূপকের নিজ বাড়ির বৈঠকখানা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঈদের একদিন পর ৩০ মে রূপকের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। পরদিন বাড়িতে ফিরে তারা বৈঠকখানার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রূপকের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। এ সময় তার দুই হাত পেছন দিকে শক্তভাবে বাঁধা ছিল।
খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে ১ জুন জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য বিভিন্ন দিক নিয়ে তদন্ত চলছে। স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতজনসহ একাধিক ব্যক্তিকে সন্দেহের তালিকায় রেখে তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হচ্ছে। আলামত হিসেবে রূপকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্র জানা যায়, হত্যার সাথে যায় এমন সন্দেহভাজন স্বজন, বন্ধুসহ বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছে পুলিশ। এরকম ৪/৫টি বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে । আলামত হিসাবে রূপকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কিভাবে হত্যা কান্ডটি ঘটেছে সেটি ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে পাওয়া যাবে। আমরা দুইটি ধরনের ধারণা নিয়ে তদন্ত করছি। খুনিরা ৩/৪ জন থাকতে পারে। তারা রূপকের সাথে আড্ডার এক পর্যায়ে পরিকল্পনা করে তাঁর হাত বাধে এবং হত্যা করে। তিনি আড্ডার বিষয়ে বলেন, রূপকের মরদেহ বৈঠক খানায় ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলেই আমাদের অনুমান পরিচিতদের সাথে হয়তো রূপক গল্প করছিল।
বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ছবেদ আলী বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই অনেক লোক জড়ো হওয়ায় সব আলামত নষ্ট হয়ে গেছে। জায়গাটি কর্ডন করা না হওয়ায় এমনটা হয়েছে। তা না হলে খুনিমের হাত-পায়ের ছাপ পাওয়া যেত। তিনি বলেন, যেটি নষ্ট হয়েছে সেটি নিয়ে আফসোস না করে আমাদের কাছে যেসব তথ্য রয়েছে সেগুলো দিয়েই আমরা তদন্ত আগাচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে বেশ কিছুদিক দিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। প্রযুক্তির সহায়তাও নেয়া হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার এক সপ্তাহ পরও এই হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্তের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দফায় দফায় বৈঠক ও সভা করছেন। গত শুক্রবার রাতে খাসাড়ীপাড়া শুকতারা জনমঙ্গল সমিতির কার্যালয়ে গ্রামবাসীর এক সভা শেষে গ্রামের মানুষ মিছিল নিয়ে বিয়ানীবাজার থানার সামনে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা অভিযোগ করেন, নিজ ঘরে যদি জীবন নিরাপদ না থাকে, তবে আমরা কীভাবে স্বাভাবিক জীবন যাপন করবো। এই ঘটনায় প্রবাসী অধ্যুষিত এই এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
বিক্ষোভাকারীদের আশস্থ করে বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ছবেদ আলী বলেন, একটি ক্লুলেস হত্যা কান্ডের রহস্য উন্মোচনের পুলিশ কাজ করছে। আমরা চাইলেই সন্দেহভাজন কাউকে গ্রেফতার করতে পারি না। যতক্ষণ না তার বিরুদ্ধে এ হত্যা কান্ডের সাথে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য না পাই। এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের গ্রেফতার করার বিষয়টিও তিনি আশ^স্থ করেন।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নূরউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এটি ক্লুলেস হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে এবং রূপক হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।